বাঁচা-মরার ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে গতির ঝড় তুলে নিউজিল্যান্ডকে দুইশ রানের আগেই থামিয়ে দিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন নাহিদ রানা। শুরু থেকেই আগ্রাসী বোলিংয়ে কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ৩০ রান হওয়ার আগেই পরপর দুই ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ভিত নড়িয়ে দেন নাহিদ। তার গতির সামনে শুরুতে কোনো জবাব খুঁজে পায়নি কিউইরা।
তবে চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। তারা মিলে ৫৬ রানের একটি জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি নাহিদ।
ব্যক্তিগত ১৯ রানে আব্বাসকে উইকেটের পেছনে লিটন দাস–এর হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান এই পেসার। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। একপ্রান্তে চাপ ধরে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
নাহিদের সঙ্গে বোলিংয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেন শরীফুল ইসলাম। তবে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেওয়ার মূল কাজটা করেন নাহিদই। একের পর এক আঘাতে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন তিনি।
ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে কেলিকে ফিরিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। এতে কিউই ওপেনারের অভিষেক সেঞ্চুরি করার স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিন অংকে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৮৩ রানে থেমে যায় তার ইনিংস, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি।
এরপর আবারও আঘাত হানেন নাহিদ রানা। ডিন ফক্সক্রফট ও জেইডেন লিনক্স–কে আউট করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এর আগে গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরেই প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এই ২৩ বছর বয়সী পেসার।
শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভারে ১টি মেডেনসহ মাত্র ৩২ রান খরচ করে ৫টি উইকেট নেন নাহিদ রানা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন শরীফুল ইসলাম।
নাহিদের এই অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন ব্যাটিংয়ে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই জয়ের পথে এগিয়ে যাবে টাইগাররা।
আকাশজমিন / আরআর