ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:৪৭ এএম

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতি ও তাঁদের দুই সন্তানসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), তাঁদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) এবং মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী পপি খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দুই সন্তান পারভেজ হোসেন ও সাদিয়া খাতুনকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত পারভেজ স্থানীয় বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাড়ি ফেরেন। তাঁর কাছে গরু বিক্রির প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এছাড়া ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “হাবিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের দুই সন্তানকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্বৃত্তরা সম্ভবত টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের জন্য বাড়িতে ঢুকেছিল। পরে পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়।”

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি এলাকায় শান্ত স্বভাবের ছিল এবং কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর