ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কেন পে-স্কেল দিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার, জানালেন শফিকুল আলম


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৪৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি—এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিদায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে ‘বড় দুঃখের’ বলে উল্লেখ করেছেন।

শফিকুল আলম জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে একটি পে-কমিশন কাজ করেছিল এবং তারা তাদের প্রতিবেদনও জমা দেয়। তবে সরকারের মেয়াদ স্বল্প হওয়ায় সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়নি। তার ভাষায়, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না, বরং অর্থ মন্ত্রণালয় এ খাতে ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করেছিল।

তিনি বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে, যা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে প্রচলিত কিছু নেতিবাচক ধারণারও জবাব দেন শফিকুল আলম। অনেকেই মনে করেন, সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়। এ ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে তিনি বলেন, প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দায়িত্বশীল।

একজন সিনিয়র সচিবের বেতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট বেতন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হলেও বিভিন্ন খরচ ও কর্তনের পর হাতে থাকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই পরিমাণ বেতন খুবই কম বলে তিনি মন্তব্য করেন। উদাহরণ হিসেবে ভারতের একজন সচিবের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে অনেক কম সুবিধা পান।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে একজন সিনিয়র সচিব হিসেবেও তাকে ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। সরকারি গাড়ি ও চালক সুবিধা থাকলেও এর আর্থিক মূল্য তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেও তিনি জানান।

বিদেশ সফরের প্রসঙ্গেও তিনি ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, বিদেশ সফরের ভাতা খুব বেশি নয় এবং সরকারি কর্মীদের একটি ছোট অংশই এ সুযোগ পান। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে যে অতিরঞ্জিত ধারণা রয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, আগামী বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সচল রাখতে দিনরাত কাজ করছেন, তাদের জন্য যথাযথ বেতন নিশ্চিত করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি সময়ের দাবি এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ।



এ সম্পর্কিত আরো খবর