চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে একদফা সংঘর্ষের পর বিকেলে আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও ক্যাম্পাস এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজ ভবনের একটি দেয়ালে একটি গ্রাফিতি ছিল, যেখানে লেখা ছিল—‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। গতকাল সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে যান। তারা গ্রাফিতির লেখা থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার পরিবর্তে ওপরের অংশে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রথম দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, “সকালে গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।”
তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।
বিকেল ৪টার দিকে আবারও ক্যাম্পাসের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছুটোছুটি শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও প্রথম দিকে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা নেয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানা যাবে।”
এ ঘটনায় ক্যাম্পাস এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।