দীর্ঘ এক দশক পর বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার এই অগ্রগতিতে গ্রেপ্তার হওয়া সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এই আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে, পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম হাফিজুর রহমানকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার তদন্তে নতুন করে গতি আনতেই এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে।
তনু হত্যাকাণ্ড দেশের অন্যতম আলোচিত মামলায় পরিণত হয়, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন সময় তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন, আলামত সংগ্রহ এবং সাক্ষ্যগ্রহণসহ নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এতদিন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে মামলাটির তদন্তে নতুন করে জোর দেওয়া হয়। পিবিআই পুনরায় তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীদের মতে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন পর কোনো সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে তনু হত্যার বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা বিভিন্ন সংগঠন এই গ্রেপ্তারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এবার মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন হবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আকাশজমিন / আরআর