চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কায় পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরে যান সাইফ হাসান। অল্প সময়ের ব্যবধানে তানজিদ হাসান তামিম (১) এবং সৌম্য সরকারও (১৮) আউট হলে মাত্র ৩২ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। কিউই পেসার উইলিয়াম ও’রোকের আগুনে বোলিংয়ে টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা গড়েন ১৬০ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ধীরে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান লিটন। দীর্ঘ ১৯ ইনিংস পর তিনি ফিফটি তুলে নেন এবং শেষ পর্যন্ত ৯১ বলে ৭৬ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা।
অন্য প্রান্তে শান্ত ছিলেন আরও দৃঢ়। ইনিংস গড়ার পাশাপাশি তিনি ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণের অসাধারণ উদাহরণ রাখেন। ১১৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ শতক। শেষ পর্যন্ত ১১৯ বলে ১০৫ রান করে আউট হন শান্ত। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছক্কার মার।
লিটনের বিদায়ের পরও বাংলাদেশ ইনিংস থেমে যায়নি। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। দুজন মিলে ২০ বলে ৩৫ রানের ঝোড়ো জুটি গড়েন। মিরাজ ১৮ বলে ২২ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের শিকার হন। অপরদিকে হৃদয় ২৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে দলের সংগ্রহকে এগিয়ে নিয়ে যান।
ইনিংসের শেষ দিকে বেন লিস্টার জোড়া আঘাত হেনে শরিফুল ইসলাম (১) ও তানভীর ইসলামকে (০) দ্রুত ফেরান। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে উইলিয়াম ও’রোক ৪৭ রানে ৩টি উইকেট নেন এবং শুরুতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন। এছাড়া বেন লিস্টার ও জেইডেন লেনক্স দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
শুরুর ধাক্কা সামলে শান্ত-লিটনের জুটিই মূলত বাংলাদেশের ইনিংসকে পুনরুজ্জীবিত করে। তাদের ব্যাটিংয়ে দল শুধু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। মাঝখানে ধৈর্যশীল ব্যাটিং এবং শেষদিকে কার্যকরী ফিনিশিং—এই দুইয়ের সমন্বয়েই বাংলাদেশ লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়।
সিরিজ বর্তমানে ১-১ সমতায় রয়েছে। ফলে এই ম্যাচটি নির্ধারণ করবে সিরিজের ভাগ্য। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডকে করতে হবে ২৬৬ রান। চট্টগ্রামের উইকেটে এই লক্ষ্য তাড়া করা সহজ হবে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ যদি শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ একাদশে এই ম্যাচে দুটি পরিবর্তন আনা হয়। তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেনকে বিশ্রাম দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় মুস্তাফিজুর রহমান ও তানভীর ইসলামকে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনে ব্লেয়ার টিকনারের জায়গায় বেন লিস্টারকে দলে নেয়।
সব মিলিয়ে, শুরুতে বিপর্যয় কাটিয়ে শান্ত ও লিটনের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ যে সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, বোলাররা এই রানকে কতটা কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারেন।