শিবগঞ্জ(বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের চিৎলার খাল এবং কিচক ইউনিয়নের ছাতিয়ানপাড়া ব্রিজ থেকে ছাতিয়ানতলা সাকোর বিল পর্যন্ত দুটি খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টায় পৃথকভাবে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর হাত ধরে দেশে খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনার যে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে আরও বিস্তৃত আকারে বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জমিতে পানি সরবরাহ সহজ হবে, ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। খাল, নদী ও জলাধার পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের জীবনমানও উন্নত হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকার কৃষকরা সেচ সংকটে ভুগছিলেন। নতুন করে খনন কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাল পুনঃখনন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি পাওয়া সহজ হবে। এতে কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খনন কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আকাশজমিন / আরআর