সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রাম—সবুজে ঘেরা শান্ত এই গ্রামেই লুকিয়ে আছে এক হৃদয়বিদারক মানবিক গল্প। ৫০ বছর বয়সী মোঃ রবিউল ইসলাম, যিনি একসময় পরিবারের ভরসা ছিলেন, আজ তিনি সম্পূর্ণভাবে অসহায় ও পরিত্যক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। চিকিৎসার অভাবে তার ডান পায়ে মারাত্মক পচন ধরেছে। ক্ষত এতটাই ভয়াবহ যে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে কেউ তার কাছে যেতে পারেন না। বাধ্য হয়ে তিনি এখন নিজের ঘরের বাইরে, বাড়ির পালানে আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, মোঃ রবিউল ইসলামের একমাত্র ছেলে মোঃ সোহাগ রানা বহুদিন আগে বাবাকে রেখে কোথাও চলে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ছেলের অনুপস্থিতিতে পরিবারটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। চিকিৎসা তো দূরের কথা, প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাও এখন তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে মোঃ রবিউল ইসলামের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। পায়ের পচন ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কিন্তু অর্থের অভাবে কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে এসে এই অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একজন বাবা, যিনি সারাজীবন সন্তানের জন্য সংগ্রাম করেছেন, আজ সেই বাবাই অবহেলা ও নিঃসঙ্গতায় পড়ে আছেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমাজের মানবিক চেতনার ওপর এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও দ্রুত সহায়তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।
স্থানীয়ভাবে অনেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য ও প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে মোঃ রবিউল ইসলামের জীবন কিছুটা হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি সহায়তা ও একটি স্থায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।