ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারী টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেন নিগার সুলতানা ইয়েমেনের মারিবে হুথিদের অস্ত্রের গুদামে বিমান হামলা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোচনা থমকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:২০ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থা সরাসরি প্রভাব ফেলছে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৪টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় রোববার রাত ১০টা) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২ দশমিক ২২ ডলার বা ২ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি ব্যারেল ২ দশমিক শূন্য ২ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ৪২ ডলারে। এই দুই সূচকের উত্থান বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতা, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধি। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের বাজারে অস্থিরতাও তত বাড়বে।

এদিকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমদানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পড়ে পণ্যদ্রব্যের বাজারে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নতুন করে চাপে পড়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


এ সম্পর্কিত আরো খবর