ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০২ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহতভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৫৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি আরও স্পষ্ট করছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেট বিভাগে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৯০ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি ১ হাজার ৩৫৮ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সংক্রমণের এই হার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৮৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে ৪ হাজার ৬৯৩ শিশুর শরীরে। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২২ হাজার ৪৪২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ হাজার ১৮ জন শিশু। এতে বোঝা যাচ্ছে, যথাযথ চিকিৎসা পেলে অনেক শিশুই সুস্থ হয়ে উঠছে, কিন্তু সংক্রমণের হার এখনও উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক লক্ষণ অবহেলা করার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়া—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সার্বিকভাবে, দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর