ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:২৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জে একসময় গডফাদারদের রাজত্ব ছিল এবং সেই প্রভাব বজায় রাখতে তৎকালীন প্রশাসন নীরব ভূমিকা রেখেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে এক রিমান্ডেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সাতজন র‌্যাব কর্মকর্তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই জবানবন্দি ও প্রকাশ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তিনি তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যিনি দ্রুততার সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি সম্পন্ন করে মামলার রায় দেন।

এই মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের পাঁচ থেকে সাত বছরের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রায়ে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। অন্যদের স্বল্প মেয়াদের সাজাও বহাল থাকে এবং তারা ইতোমধ্যে সাজা ভোগ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, পূর্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও মামলাটি শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে বর্তমান সময়ে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা দ্রুত মামলাটি তালিকাভুক্ত করে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। এই মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে খুন-গুমের ঘটনা কিছুটা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই রায় কার্যকর হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

মানববন্ধনে নিহত চন্দন কুমার সরকারের ভাগিনা অ্যাডভোকেট প্রিয়তম দেব বলেন, তারা এখনো চূড়ান্ত রায় কার্যকর হতে দেখেননি এবং নিহতদের পরিবারগুলো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, অতীতে এই ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, তাই দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, সাধারণ মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রত্যাশা করেছিল এবং রায়ও হয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত সেই রায় কার্যকর করা।

সামগ্রিকভাবে, মানববন্ধন থেকে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের জোর দাবি জানানো হয়, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায় এবং আইনের শাসন সুসংহত হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর