ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারী টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেন নিগার সুলতানা ইয়েমেনের মারিবে হুথিদের অস্ত্রের গুদামে বিমান হামলা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ মেলেনি: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৪২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে মোট ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি সুপারিশকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিশনটির মতে, ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে এসব সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে প্রার্থিতার অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন নিশ্চিত করার বিষয়টি আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ফলাফল নিয়ন্ত্রণের কোনো ধরনের অভিযোগ বা প্রমাণ তারা পাননি। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামগ্রিকভাবে তারা এমন কোনো পরিস্থিতি শনাক্ত করতে পারেননি যা পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি তাদের পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে, তারা গত বছরের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তারা ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি মিশনটি একটি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেই পর্যবেক্ষণগুলো আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে।

মিশনের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আইনগত কাঠামো, রাজনৈতিক সংলাপ, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জরুরি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা ও সহনশীলতা বাড়ানোকে তারা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে নিয়মিত সংস্কার প্রয়োজন। নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল একটি ব্যবস্থা।

ইইউ মিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ তাদের সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে। প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী পর্যবেক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সুপারিশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।



এ সম্পর্কিত আরো খবর