ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা


বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা

  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জরুরি বিভাগে মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে ওয়ার্ডে ভর্তি ঠান্ডাজনিত ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরা গত দুই দিন ধরে নেবুলাইজার সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি নেবুলাইজার সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপজেলার পুটিজুরী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী জানান, “ভর্তি হওয়ার পর একবার নেবুলাইজার নিয়েছি। কিন্তু এরপর বিদ্যুৎ না থাকায় আর নিতে পারিনি।” তাঁর মতো আরও অনেক রোগী একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রোগী পর্যবেক্ষণ, ইনজেকশন দেওয়া কিংবা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় ঝুঁকি বাড়ছে। এতে সেবার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর স্বজনরা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, হাসপাতালে যদি জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে বিদ্যুৎ না থাকলেও চিকিৎসা সেবা চালু রাখা সম্ভব হতো। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, “জেনারেটরের বিষয়টি আমাদের উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো আছে। যদি কোনো বরাদ্দ পাই, তবে আমরা এটি চালু করতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলার কেউ যদি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার স্বার্থে জেনারেটর দিতে চান, তবে আমরা সেটিও গ্রহণ করতে প্রস্তুত।”

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাসপাতালের সার্বিক সেবাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমানে রোগী ও স্বজনদের প্রধান দাবি, দ্রুত জেনারেটর স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর