ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা


বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সংকট, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা

  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জরুরি বিভাগে মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে ওয়ার্ডে ভর্তি ঠান্ডাজনিত ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরা গত দুই দিন ধরে নেবুলাইজার সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি নেবুলাইজার সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপজেলার পুটিজুরী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী জানান, “ভর্তি হওয়ার পর একবার নেবুলাইজার নিয়েছি। কিন্তু এরপর বিদ্যুৎ না থাকায় আর নিতে পারিনি।” তাঁর মতো আরও অনেক রোগী একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জরুরি বিভাগে মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রোগী পর্যবেক্ষণ, ইনজেকশন দেওয়া কিংবা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় ঝুঁকি বাড়ছে। এতে সেবার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর স্বজনরা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, হাসপাতালে যদি জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকত, তাহলে বিদ্যুৎ না থাকলেও চিকিৎসা সেবা চালু রাখা সম্ভব হতো। তারা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, “জেনারেটরের বিষয়টি আমাদের উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো আছে। যদি কোনো বরাদ্দ পাই, তবে আমরা এটি চালু করতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলার কেউ যদি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার স্বার্থে জেনারেটর দিতে চান, তবে আমরা সেটিও গ্রহণ করতে প্রস্তুত।”

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাসপাতালের সার্বিক সেবাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমানে রোগী ও স্বজনদের প্রধান দাবি, দ্রুত জেনারেটর স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি নজরে আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর