ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১১


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৩ পিএম

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বাঁশেরতল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতরা সবাই রংপুরে চিকিৎসক দেখিয়ে মাইক্রোবাসে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ করেই একটি নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এই দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—ভূরুঙ্গামারীর আসাদমোড় উত্তর তিলাই এলাকার মো. মনির হোসেনের আট বছর বয়সী মেয়ে মোছা. ছাদিয়া, একই উপজেলার মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. নুরনবী (২৮) এবং ধলডাঙ্গা গ্রামের মো. সাইফুর রহমানের ছেলে মাইক্রোবাস চালক মো. লিমন (২৮)।

প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল হোসেন জানান, মাইক্রোবাসটি রংপুর থেকে চিকিৎসা শেষে ভূরুঙ্গামারীর দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ভুট্টাবোঝাই একটি ট্রাক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সরাসরি মাইক্রোবাসটিকে আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাইক্রোবাসটি ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

আহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—আব্দুল গফুরের ছেলে হামিদুল ইসলাম, আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে শান্তা, সোহরাব আলীর ছেলে সমের আলী এবং মো. জয়নালের মেয়ে মোছা. জবা। বাকি আহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটির চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। তাদের আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করছে এবং রাতের বেলায় অনেক চালক অসতর্কভাবে গাড়ি চালান। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি এবং যানবাহনের ত্রুটিই অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর