ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

হিশামকে নিয়ে আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিল পরিবার


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহের পরিবার জানিয়েছে, তার অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে তারা আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন। তবে সেই সতর্কতা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

হিশামের ছোট ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ একটি মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তার বড় ভাইয়ের আচরণ ছিল অস্থির ও আগ্রাসী। তিনি বলেন, “সে খুব দ্রুত রেগে যেত। তার রুমমেটদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার উপযুক্ত মানসিক অবস্থা তার ছিল না।”

আহমদ আরও জানান, “সে যাদের সঙ্গে থাকত, আমি তা জানতাম না। তার হয় একা থাকা উচিত ছিল, না হয় গৃহহীন হয়ে বাইরে থাকা উচিত ছিল।” তার এই বক্তব্যে পরিবারের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে চলা উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে।

২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহ বর্তমানে তার দুই রুমমেট জামিল লিমন (২৭) এবং নাহিদা বৃষ্টি (২৭) হত্যার ঘটনায় দুটি প্রথম শ্রেণির হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় রোববার একটি সেতুর কাছাকাছি মানবদেহের অংশবিশেষ পাওয়া যায়। তবে সেগুলো এখনো নাহিদা বৃষ্টির কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, টাম্পা বে এলাকায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর আশপাশ থেকে এসব মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দিন হিশাম আচমকা বাড়িতে ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এরপরই তারা পুলিশে ফোন করেন। আহমদ বলেন, “সে খুব অদ্ভুত আচরণ করছিল, তাই আমি নিজেই পুলিশকে ফোন করি যাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।”

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে হিশাম আবুঘারবিয়েহ পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতেন না। পরিবার আরও জানায়, তার আগেও তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছিলেন।

ঘটনার দিন তার ছোট বোন জানান, হিশাম কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় লিভিং রুমে ভিডিও গেম খেলছিলেন। বোন আপত্তি জানালে তিনি তার দিকে এগিয়ে যান এবং অস্বাভাবিক আচরণ করেন, তবে তিনি কোনোভাবে নিজেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন।

গ্রেপ্তারের দিন পুলিশ তাকে একটি নাটকীয় পরিস্থিতিতে আটক করে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যখন তাকে ঘিরে ধরেন, তখন তিনি কেবল একটি তোয়ালে পরে হাত তুলে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারের পর নিহতদের পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন হিশামের ভাই আহমদ। তিনি বলেন, “আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। যা ঘটেছে তার জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের পরিবার গভীর লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছে।”

আদালতের নথি আরও জানায়, হিশামের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে দুইবার সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের আবেদনটি অনুমোদিত হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হিশাম অতীতে শারীরিক সহিংস আচরণ করেছেন। নথিতে উল্লেখ আছে, তিনি একাধিকবার পরিবারের সদস্যদের আঘাত করেছেন এবং ঘরোয়া পরিবেশে সহিংস আচরণ করেছেন।

আহমদ জানান, আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ২০২৩ সালের অভিযোগগুলোকে এগিয়ে নিতে পারেননি। পরে তিনি বলেন, “আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এখন অনুতপ্ত।”

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিশাম সমাজের জন্য এখনো একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। আদালত তাকে জামিন ছাড়া আটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমরা নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছি। তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করছেন, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।”

এদিকে, মামলাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সতর্কতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আকাশজমিন / আরআর            


এ সম্পর্কিত আরো খবর