ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতি: অবকাঠামোগত দুর্বলতাই প্রধান কারণ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩৯ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট রেলপথে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় অবকাঠামোগত দুর্বলতাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরাতন স্লিপার, ত্রুটিপূর্ণ রেললাইন এবং নিম্নমানের ওয়াগনের সমন্বিত সমস্যার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানের কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দাহ্য পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে উন্নতমানের ওয়াগন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রেনে সেই মান বজায় রাখা হয়নি।

তদন্তে উঠে এসেছে, রেললাইনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং স্লিপারের মানহীনতা ট্রেনটির ভারসাম্য নষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ব্যবহৃত ওয়াগনগুলোর মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের ছিল না, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভালো মানের স্লিপার, কোচ এবং আধুনিক রেললাইন থাকলে নির্ধারিত ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলাচলকারী ট্রেন সাধারণত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট লাইনের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকায় এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশন অতিক্রম করার পর লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ৫টি ওয়াগন এবং একটি গার্ডব্রেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জানা যায়, পদ্মা ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চট্টগ্রাম ডিপো থেকে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল নিয়ে ট্রেনটি সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ৪২ হাজার লিটার তেল নষ্ট হয়, যা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও সৃষ্টি করে।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর রেল চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। এতে ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনগুলো সাময়িকভাবে বিঘ্নের মুখে পড়ে।

ঘটনার পরদিন ২ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা কিছুটা বিলম্বে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে দাহ্য পদার্থ পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের ওয়াগন ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর