ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

প্রথম আলো ভবন হামলা: ৩৮ জন গ্রেপ্তার, তদন্তে অগ্রগতি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৫৭ এএম

প্রথম আলো ভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার চার মাস পার হলেও এখনো অনেক হামলাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল, আবার কেউ উসকানি ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও অনেককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় প্রথম আলো ভবনে হামলা চালায় একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী। তারা ভবনের নিরাপত্তা শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে। একই রাতে একই গোষ্ঠীর একটি অংশ দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয় ও ছায়ানট ভবনেও হামলা চালায় বলে জানা যায়। পরদিন সন্ধ্যায় উদীচী কার্যালয়েও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

তদন্তে জানা গেছে, হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে এ পর্যন্ত ৩৮ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ জনকে প্রথমে একটি মামলায় এবং ১১ জনকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে আরও কয়েকজনকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাইদুর রহমান, মো. মাইনুল ইসলাম, মো. কারী মুয়াজ বীন আবদুর রহমান, নাইম ইসলাম, মো. সাগর ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর, মো. সোহেল মিয়া, মো. হাসান, মো. আবদুল বারেক শেখ, আবুল কাশেমসহ মোট ৩৮ জন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হামলার সময় কিছু ব্যক্তি কুড়াল, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়। কিছু ব্যক্তি আবার সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যও দেয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, লাইভ ফুটেজ ও স্থিরচিত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হামলায় অংশ নেওয়া কিছু ব্যক্তি এখনও পলাতক রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে অনলাইনে উসকানিমূলক কার্যক্রম চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছে। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং নতুন করে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ হামলা ছিল, যার পেছনে আরও বড় চক্র থাকতে পারে। তাদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর