লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টা পর এক অটোরিকশা চালক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত রাজিব (১৩) দক্ষিণ গাইয়ার চর ফজু মোল্লা স্টেশন এলাকার অটোচালক মোস্তফার ছেলে।
শনিবার (২ মে) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দফাদার বাগান এলাকায়, ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজিব বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরবর্তীতে রাত প্রায় ৩টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রাজিবের বাবার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় পরিবার আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি স্থানীয়দেরও জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন বাগানের ভেতরে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, শিমুলতলা এলাকার এক ব্যক্তি রাজিবের অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে একজন কিশোর অটোচালকের এমন করুণ পরিণতি সবাইকে নাড়া দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামীণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।