ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা এমপি মোশাররফের


  • আপলোড সময় : শনিবার ০২ মে, ২০২৬ সময় : ৯:১০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার করে কোনো ধরনের অশালীন বা বিতর্কিত আয়োজন করা হলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অশ্লীল নৃত্যের ভিডিও তার নজরে এসেছে, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এমন ঘটনা সমাজের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এমপি মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন বৈশাখী মেলা, স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান, জামাই মেলা, শ্রমিক দিবসসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এসব আয়োজনের কিছু অংশে শালীনতার সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই আয়োজন অবশ্যই হতে হবে শালীন, রুচিশীল এবং সামাজিক মূল্যবোধসম্মত। কোনোভাবেই অশ্লীলতা বা সমাজবিরোধী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সংস্কৃতির নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণ সমাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি মোশাররফ হোসেন বলেন, মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে যুবসমাজ ইতোমধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে যদি অশ্লীল নৃত্য ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের আয়োজন দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দল ও নেতাদের বিতর্কিত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, কোথাও এ ধরনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে দেখলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এমপি মোশাররফ হোসেনের এই বক্তব্য স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমাজের সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের কড়া বার্তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোকে আরও শালীন ও দায়িত্বশীল করে তুলতে এটি সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিনোদনের নামে যে অশালীনতা দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি ছিল। এই প্রেক্ষাপটে এমপি মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সংস্কৃতির সুস্থ ধারা বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও মনে করছেন, সংস্কৃতিকে বিকৃত না করে সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন আয়োজনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই একটি সুস্থ, শালীন ও ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর