কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর হাওড়ের রোয়া বিলে ধান কাটতে গিয়ে নৌকা ডুবে আরিফুল ইসলাম (২০) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাসিন্দা। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে হাওর থেকে ধান নিয়ে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দপুর গ্রামের জসিমের সঙ্গে একই নৌকায় করে ধান বহন করছিলেন আরিফুল ইসলাম। দিনের কাজ শেষে তারা হাওর এলাকা থেকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ করে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। এ সময় জসিম সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আরিফুল পানিতে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর ডুবুরির সহায়তায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চান্দপুর গ্রামের ফরিদুল মাস্টার জানান, প্রতিদিনের মতো ধান কেটে ফেরার সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, হাওরে অতিরিক্ত ধান বোঝাই, নৌকার ভারসাম্যহীনতা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট না থাকা শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এদিকে, তরুণ শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম বিরাজ করছে। সহকর্মী ও এলাকাবাসীরাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি মৌসুমেই হাওর এলাকায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা মনে করেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরাঞ্চলে কৃষি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। নৌযানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মালামাল বহন, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওর অঞ্চলে কৃষিকাজ দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঞ্চলের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে মানবিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।