নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে ১১টায় হাসপাতালের সামনে
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ৮ জন নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। রোববার (৩ মে) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ এবং বিপরীত দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ডিআই পিকআপে করে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক রওনা দিয়েছিলেন। তারা সিলেট থেকে কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি কাঠবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহতদের সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ জনে।
নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন— সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। বাকি ৪ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০), একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, ভোরের দিকে শ্রমিকদের বহনকারী পিকআপটি সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে চারজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা চলছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
এদিকে এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।