অনলাইন রিপোর্টার
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে আন্তর্জাতিক আগমন হলে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়। নিয়মিত স্ক্যানিং ও তল্লাশির সময় এসব সিগারেট শনাক্ত করা হয়। সন্দেহজনক আচরণের কারণে তার লাগেজ আলাদা করে পরীক্ষা করা হলে এই চালানটি ধরা পড়ে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়। এছাড়া একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে, যার মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব পণ্য ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন, জব্দ করা সিগারেটের বিপরীতে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া সব পণ্য ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আটক যাত্রী মো. শামসুদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কাস্টমস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে পণ্য আনার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য চোরাচালানের চেষ্টা বেশি দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর তল্লাশির ফলে এ ধরনের চোরাচালান রোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে এবং আইন মেনে পণ্য বহন করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।