রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টির পূর্বের নাম পুনর্বহাল করে ঐতিহ্যবাহী “ছাত্তার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়” নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। আলোচনায় এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সভায় গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এ শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো এবং স্থানীয় শিল্প ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে বিদ্যালয়টির নাম “ছাত্তার জুট মিলস উচ্চ বিদ্যালয়” হিসেবে পুনঃনামকরণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পূর্বনাম “ছাওয়ার জুট মিলস মডেল উচ্চ বিদ্যালয়”-এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসন মনে করছে, এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় ইতিহাস ও শ্রমজীবী মানুষের অবদান নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে। বিশেষ করে জুট মিলস কেন্দ্রিক শিল্প ঐতিহ্য রূপগঞ্জের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে, যা নতুন নামের মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। পত্রে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বিষয়টি অবহিতকরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগ এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী নাম পুনর্বহাল হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচিতি আরও সুসংহত করবে।
তবে কিছু মহল মনে করছে, বিদ্যালয়ের বর্তমান নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সকল পক্ষের মতামত আরও বিস্তৃতভাবে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা হলে সিদ্ধান্তটি অধিক গ্রহণযোগ্য হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। প্রশাসন আশাবাদী, প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।