ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

চট্টগ্রামে পাঁচ ব্যাংকে তালা, আমানতকারীদের বিক্ষোভ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬ সময় : ৫:১৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকা-এ একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় আমানতকারীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে মুনাফা (হেয়ার কাট) বাতিল এবং স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবিতে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা সোমবার সকালে আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় গিয়ে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, চট্টগ্রাম-এর সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন।

একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। আমানত ফেরত পেতে এর আগে খাতুনগঞ্জ এলাকায়ও চারটি শাখায় তালা দিয়েছিলেন গ্রাহকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় একটি ব্যাংক শাখার সামনে শতাধিক আমানতকারী বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা শাখার ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ভেতরে আটকা পড়েন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়’সহ নানা স্লোগান দেন।

বিক্ষুব্ধ আমানতকারী সামিনা আক্তার বলেন, “সামনে কোরবানির ঈদ, কিন্তু টাকা না পেলে কোরবানি কীভাবে দেব? আমরা আমাদের নিজের টাকা তুলতে পারছি না, অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না।”

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কাশেম বলেন, “আমরা কষ্টার্জিত টাকা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে রাখি। কিন্তু এখন সেই টাকা তুলতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগ।”

আরেক আমানতকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসার মুনাফার টাকা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য রেখেছিলেন, কিন্তু এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

আমানতকারীরা দাবি করেন, অবিলম্বে হেয়ার কাট বা মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে, জমা টাকার পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে এবং লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।

সমগ্র বাংলাদেশ ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম বলেন, “আমাদের টাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একীভূত ব্যাংকের চেক কীভাবে চলবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।”

সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমাদের জীবনের সঞ্চয় এখন আটকে রাখা হয়েছে। সামনে পরিবার ও কোরবানির খরচ আছে, দ্রুত টাকা ফেরত দিতে হবে।” এদিকে ডবলমুরিং থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা এসব ব্যাংকের আমানতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মুনাফা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেও আমানতকারীদের মধ্যে এখনো উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর