যশোরের শার্শা উপজেলায় লামিয়া খাতুন (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই ছাত্রীর হাতে লেখা একটি আবেগঘন চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তার পারিবারিক জীবনের নানা কষ্ট ও অভিমান উঠে এসেছে।
নিহত লামিয়া খাতুন শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে এবং বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে বর্তমানে তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর (সৎ বাবা) বাড়িতে বসবাস করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামিয়ার বাবা বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। রোববার সকালে তার মা শিখা আক্তার শিরিন তাকে বাড়িতে একা রেখে বিশেষ প্রয়োজনে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যায় মেয়েকে ফোনে না পেয়ে তিনি লামিয়ার চাচিকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে চাচি বাড়িতে গিয়ে শয়নকক্ষে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মরদেহটি নিচে নামান।
মরদেহের পাশে থেকে লামিয়ার হাতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে সে তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে নিজের ইচ্ছায় এই পথ বেছে নেওয়ার কথা লিখেছে। চিরকুটে লামিয়া তার বাবার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছে, সে তার বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিল কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
চিরকুটে সে তার মা ও নানার প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে এবং মৃত্যুর পর বাবার কান্নাকাটি না করার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে চিরকুটে মায়ের কিছু সিদ্ধান্তের প্রতি তার চাপা কষ্ট ও অভিমান প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, লামিয়া ছিল শান্ত স্বভাবের এবং পড়াশোনায় মনোযোগী একজন ছাত্রী। তার এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলেন, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ তার মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে শার্শা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ভবিষ্যতে এড়ানো যায়।