মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়ন এর রঘুরামপুর এলাকায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইসরাফিল নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামপাল মৌজার আরএস ৪২১, ৪২২ ও ৪২৩ নম্বর দাগ সংলগ্ন সরকারি খালটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং পানি নিষ্কাশন ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সুখবাসপুর মৌজার বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম অবৈধভাবে খালের একটি অংশ দখল করে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশ ঘেঁষে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খালের কিছু অংশের ওপর পিলার স্থাপন করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এখানে একটি সরকারি খাল রয়েছে, যা বহুদিন ধরে এলাকার মানুষের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এখন খালের ওপর পিলার বসিয়ে ভবন নির্মাণ করায় পানি চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নিজস্ব ৬ শতাংশ জমি রয়েছে। আমি আমার জমির মধ্যেই বাড়ি নির্মাণ করছি। কোনো সরকারি জমি দখল করিনি। তবে ভবিষ্যতে যদি প্রমাণিত হয় যে আমার নির্মাণকাজের কোনো অংশ সরকারি জমিতে পড়েছে, তাহলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।”
অভিযোগকারী ইসরাফিল প্রশাসনের কাছে সরকারি খালের সীমানা নির্ধারণে সার্ভেয়ার নিয়োগ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। অভিযোগপত্র হাতে পেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, “বিষয়টি তদন্তের জন্য সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাল দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করবে প্রশাসন। অন্যথায় পরিবেশ ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।