ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বৃষ্টি হলেই বন্ধ স্কুলমুখী শিশুদের যাত্রা

মুন্সীগঞ্জে রাস্তার অভাবে চরম ভোগান্তি ১০ পরিবারের


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০৪ পিএম

মুন্সীগঞ্জের মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ১০টি পরিবার। যাতায়াতের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি পরিবার বসবাস করলেও তাদের চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদা ও পানিতে এলাকা ভরে যাওয়ায় বাড়ি থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। তবে সামান্য বৃষ্টি হলেই তারা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ইসরাফিল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো রাস্তা না থাকায় তাদের সন্তানরা চরম কষ্টে আছে। বৃষ্টি হলেই শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি একটি স্থায়ী যাতায়াতের রাস্তা করে দেয়, তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।”

অন্য ভুক্তভোগী তামান্না আক্তার বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। বৃষ্টি হলেই শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয় না। এতে পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিসা আক্তার জানায়, তারা প্রতিদিন কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যায়, কিন্তু বৃষ্টি হলে আর যাওয়া সম্ভব হয় না। মাঠ ও জমিন দিয়ে পার হতে গিয়ে পানি ও কাদার কারণে তারা আটকে যায়। তার ভাষায়, “যদি রাস্তা থাকতো, তাহলে আমরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারতাম।”

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, একটি ছোট রাস্তা নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রামপাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, রাস্তার জন্য কাউন্সিলে লিখিত আবেদন দিতে হবে। সরকারি বরাদ্দ এলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর