নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ দেড় যুগেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। কাজীর হাট ঈদগাঁ মাঠ থেকে পূর্ব পাটোয়ারীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নাগরিকরা মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা যান চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার অন্তত ১০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থা যাতায়াতকে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে, ফলে সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অটোরিকশা চালকরা। সড়কের গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ছে। পথচারীরাও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।