দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (৯ মে) ভোরে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ আবহাওয়া বার্তায় রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ওই পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা এবং নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার রাতে প্রকাশিত দেশের সার্বিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের এই সময়ে বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের আধিক্য এবং কালবৈশাখী প্রবণতার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে অবস্থান না করা, খোলা মাঠ এড়িয়ে চলা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া কৃষকদেরও আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মাঠে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে।