ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

নিশিনাথতলা মন্দিরে বৈশাখী উৎসব, ভক্তদের সমাগমে মুখর চিত্রা তীর


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

চিত্রা নদীর বাঁধাঘাট থেকে স্নান করে ভেজা কাপড়ে পায়ে হেঁটে পাকুড়গাছের গোড়ায় জল ও দুধ ঢালছেন ভক্তরা। কেউ গাছের ডালে বাঁধছেন ইটের টুকরো, আবার কেউ উপবাস করে গাছতলায় বসে করছেন প্রার্থনা—মনোবাসনা পূর্ণ ও রোগমুক্তির আশায়। এমন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেই প্রতি বছর বৈশাখ মাসে মুখর হয়ে ওঠে নড়াইল শহরের নিশিনাথতলা মন্দির প্রাঙ্গণ।

নিশিনাথতলায় অবস্থিত পাকুড়গাছ ঘিরে শত শত বছরের পুরোনো বিশ্বাস ও পূজার ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসজুড়ে বিশেষ করে শনি ও মঙ্গলবার এখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা সমবেত হয়ে পূজা-অর্চনা করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে দুধ, জল, ফুল, ফল ও সিঁদুর দিয়ে নিবেদন। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে প্রার্থনা করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয় এবং জীবনের বাধা দূর হয়।

গত ৫ এপ্রিল সকালে দেখা যায়, চিত্রা নদীর বাঁধাঘাটে স্নান সেরে নারী-পুরুষ ভক্তরা ফুল, ফল ও পবিত্র জল নিয়ে পাকুড়গাছের নিচে সমবেত হয়েছেন। তারা গাছের গোড়ায় দুধ ঢালছেন, তেল ও সিঁদুর দিচ্ছেন এবং উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে পরিবেশ মুখরিত করছেন।

ভক্ত ইলা রানী বিশ্বাস বলেন, নদীতে স্নান করে পবিত্র জল ও ফুল নিয়ে এখানে পূজা দিতে আসি। গাছে জল ঢাললে পূণ্য লাভ হয় বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রতি বছরই এখানে আসি।

কলেজছাত্র শিমুল পাঠক জানান, আগে এখানে মাসব্যাপী মেলা হতো। সার্কাস, যাত্রা, পুতুল নাচ ও মহানাম সংকীর্তন হতো। এখন সেই জৌলুস কিছুটা কমলেও পূজার ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে।


স্থানীয় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, একসময় নিশিনাথতলা ছিল গভীর বনাঞ্চল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন দুর্ধর্ষ ডাকাত নিশিনাথ। ওই এলাকার পাকুড়গাছ ছিল তার আস্তানা। একদিন এক বৃদ্ধা ভয়ে মানত করেন, নিরাপদে মেয়ের বাড়ি পৌঁছালে নিশিনাথের নামে পূজা দেবেন। পরে তিনি মানত পূরণ করলে শুরু হয় পূজার প্রচলন। সময়ের সঙ্গে নিশিনাথের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তি বাড়তে থাকে।

কথিত আছে, এই ঘটনার পর নিশিনাথ নিজেই পাপের পথ ত্যাগ করে সাধনায় মনোনিবেশ করেন এবং একসময় সিদ্ধিলাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই পাকুড়গাছের নিচেই দেহত্যাগ করেন। এরপর স্থানীয়রা সেখানে ছোট একটি মন্দির নির্মাণ করেন, যা পরে ‘শ্রীশ্রীনিশিনাথতলা মন্দির’ নামে পরিচিতি পায়।

নিশিনাথতলা মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক দাস বুড়ো জানান, এ বছর মহানাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। বৈশাখের শেষ সপ্তাহে মেলা আরও জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্দিরের পূজারী সুনীল চক্রবর্তী বলেন, এই পূজার ইতিহাস প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো বলে শোনা যায়। বৈশাখ এলেই ভক্তরা নদী থেকে জল এনে এখানে পূজা দেন। তাদের বিশ্বাস, কেউ এখানে খালি হাতে ফেরেন না। স্থানীয়দের মতে, নিশিনাথতলা এখন শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং নড়াইলের ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর      


এ সম্পর্কিত আরো খবর