ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

চাকরি নয়, উদ্যোক্তা—রাজিয়ার অনুপ্রেরণার গল্প


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৫:০৮ পিএম

নীলফামারী প্রতিনিধি

চাকরির পেছনে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পর হতাশ না হয়ে নতুন পথ বেছে নেন রাজিয়া সুলতানা। সীমিত পুঁজি, অভিজ্ঞতার অভাব আর ঘরোয়া দায়িত্বের মাঝেও তিনি শুরু করেন নিজের উদ্যোগ। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করা সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বের ৯টি দেশে। নীলফামারীর সৈয়দপুরের এই নারী উদ্যোক্তার গল্প এখন অনেক নারীর জন্য অনুপ্রেরণার নাম।

সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা দুই সন্তানের জননী। সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের পরিচয় গড়ার স্বপ্ন থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেন তিনি। পাটসুতা ও কটন সুতার তৈরি ব্যাগ, পার্স, মানিব্যাগ, টেবিল ম্যাট, শোপিস ও দোলনার মতো নান্দনিক পণ্য তৈরি করেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘নান্দনিক ক্রাফট’। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য সৌদি আরব, কাতার, দুবাই ও জাপানসহ বিশ্বের মোট ৯টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রাজিয়া জানান, শুরুতে তার কাছে পুঁজি ও অভিজ্ঞতা—দুটোই ছিল সীমিত। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে অনলাইন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণে যুক্ত হন তিনি। পাশাপাশি ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ডিজাইন ও কারিগরি কৌশল শিখতে থাকেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণও তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

২০২০ সালে সন্তানের জমানো মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ফেসবুকে একটি পেজ খুলে শুরু হয় ‘নান্দনিক ক্রাফট’-এর যাত্রা। প্রথমদিকে স্থানীয় মেলা ও অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কাজের পরিধি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘরোয়া এই উদ্যোগ রূপ নেয় একটি ছোট কারখানায়।

বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ জন নারী কাজ করছেন। তারা নিয়মিত আয় করে পরিবার চালাতে পারছেন। এতে শুধু রাজিয়া নন, তার সঙ্গে যুক্ত নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় পর্যায়ে নারী কর্মসংস্থান সৃষ্টির কারণে এলাকায় প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

তিনবার ‘জয়িতা’ নির্বাচিত এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, “আমি চাই নান্দনিক ক্রাফট শুধু একটি ব্যবসা না হয়ে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক। অনেক নারী যেন এখান থেকে সাহস পায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”

মাত্র পাঁচ হাজার টাকার ছোট্ট উদ্যোগ আজ আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। রাজিয়ার এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সীমাবদ্ধতাও বড় স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

আকাশজমিন / আরআর      


এ সম্পর্কিত আরো খবর