ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ

কাপাসিয়ায় ৫ খুন

ভাইকে কল করে গৃহকর্তা বলেন, ‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না’


কাপাসিয়ায় ৫ খুন

  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০০ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং নারীর ভাই। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছেন।

শনিবার সকালে রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। রসুল মিয়া গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরকান মিয়া প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি প্রাইভেট কার চালাতেন এবং তাঁর শ্যালক একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহত শারমিন আক্তারের স্বজনদের দাবি, সকালে ফোরকান মিয়া নিজেই এক স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।’ এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

নিহতদের ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ফোরকান মিয়া তাঁর ভাইকে ফোন করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ভেতরে প্রবেশ করে তারা মেঝে ও বিছানায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ফোরকান মিয়ার সঙ্গে স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার তাদের মধ্যে মারধর ও পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। কয়েক মাস আগে শারমিনকে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসাও করাতে হয়েছিল বলে জানান স্বজনরা।

ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে পারিবারিক বিরোধ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আকাশজমিন / আরআর      


এ সম্পর্কিত আরো খবর