ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কাপাসিয়ায় ৫ খুন

ভাইকে কল করে গৃহকর্তা বলেন, ‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না’


কাপাসিয়ায় ৫ খুন

  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ৬:০০ পিএম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তাঁর তিন সন্তান এবং নারীর ভাই। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক রয়েছেন।

শনিবার সকালে রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)সহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। রসুল মিয়া গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরকান মিয়া প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি প্রাইভেট কার চালাতেন এবং তাঁর শ্যালক একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহত শারমিন আক্তারের স্বজনদের দাবি, সকালে ফোরকান মিয়া নিজেই এক স্বজনকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না।’ এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মরদেহ দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

নিহতদের ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ফোরকান মিয়া তাঁর ভাইকে ফোন করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ভেতরে প্রবেশ করে তারা মেঝে ও বিছানায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ফোরকান মিয়ার সঙ্গে স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার তাদের মধ্যে মারধর ও পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। কয়েক মাস আগে শারমিনকে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসাও করাতে হয়েছিল বলে জানান স্বজনরা।

ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে পারিবারিক বিরোধ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এটি পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আকাশজমিন / আরআর      


এ সম্পর্কিত আরো খবর