মামুন উজ্জ্বল, কিশোরগঞ্জ থেকেঃ
রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া কিশোরগঞ্জের রিয়াদ রশিদ (২৮) ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গত ২ এপ্রিল এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি পরিবারের কাছে নিশ্চিত হয় আরও পরে।
নিহত রিয়াদ রশিদের সঙ্গে একই ক্যাম্পে থাকা অপর বাংলাদেশি লিমন দত্ত শুক্রবার রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। রিয়াদ রশিদ গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলে জানা গেছে।
নিহত রিয়াদ রশিদ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোণা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে রিয়াদ রশিদ ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একটি রাশিয়ান কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে রাশিয়ায় যান। পরবর্তীতে তিনি সেখানকার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। জানা গেছে, একই সময়ে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিও রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল ২৯ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ২ এপ্রিল রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। ওই হামলায় রিয়াদ রশিদসহ আরও একজন বাংলাদেশি এবং একজন নাইজেরিয়ান সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই ঘটনায় আরও তিনজন রাশিয়ান সেনা আহত হন।
আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি লিমন দত্ত বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি ওই হামলায় একটি পা হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। লিমন দত্তই পরে ফেসবুকের মাধ্যমে রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, রিয়াদ রশিদ চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গেলেও তিনি যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, তা পরিবারকে জানাননি। এ খবর শুনে তার বাবা আব্দুর রশিদ ভেঙে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে কোম্পানিতে চাকরি করতে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, এটা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন তার লাশেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছি না—এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি নিহত রিয়াদ রশিদকে এলাকার সবার প্রিয় ও শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরানুল কবির জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে এবং নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার সূত্রে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আকাশজমিন / আরআর