জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতে তিনটি পৃথক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগে ঘটনাস্থল, সময়, হামলার ধরন এবং বিভিন্ন আসামির সম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশন দাবি করে, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়। পরে গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ দাবি করেন, ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। রোববার সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলামসহ আরও অনেকে।
এ ঘটনায় আদালতের আদেশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর