ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসরায়েলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট: সরকার গঠন নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ইসরায়েল নির্বাচনে আরবদের চমক: কারচুপির অভিযোগে সরব লিকুদ পার্টি দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের নতুন সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক? ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে শুরু হলো ভোটগ্রহণ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত

সিদ্ধিরগঞ্জে ছাত্র ইয়াছিন হত্যার ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৫:৪৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বেইজ স্কুলের মেধাবী ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ। তিনি জানান, প্রধান আসামি আজিম হোসাইন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া অন্য দুই আসামি ফয়সাল ও নুসরাত জাহান মিমকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসা থেকে ওষুধ কেনার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইয়াছিন আরাফাত। দুই দিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার আশরাফ আলী এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ইয়াছিনের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলার তদন্তভার পরে পিবিআইকে দেওয়া হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, মূল আসামি আজিম হোসাইনের স্ত্রী নুসরাত জাহান মিমের ফুফাতো ভাই ছিলেন নিহত ইয়াছিন। আজিম ও মিমের মধ্যে আগে থেকেই দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল।

একপর্যায়ে মিমের মোবাইল ফোনে ইয়াছিনের পাঠানো একটি মেসেজ দেখে আজিম তাকে পরকীয়া সম্পর্কের ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করেন। যদিও মিম বারবার ইয়াছিনকে নিজের ফুফাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন, তবুও আজিম তা বিশ্বাস করেননি।

পরে বন্ধু ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ইয়াছিন ওষুধ কিনতে বের হলে আজিম ও ফয়সাল কৌশলে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর আরও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইয়াছিনকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ মে ডেমরা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা শনিরআখরা থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে নুসরাত জাহান মিমকে আটক করা হয়। মিমের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, ৬ মে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আজিম নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর