গাইবান্ধার জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে ঘুষ দাবি করার সময় জাফরুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবি করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে গাইবান্ধা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাফরুল্লাহ নিজেকে দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অফিসে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম রয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি ‘সমাধান’ করার কথা বলে ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অফিসের কর্মকর্তারা প্রথমে তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা আরও খোঁজখবর নেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তিনি আসলে দুদকের কোনো কর্মকর্তা নন এবং তার দেওয়া পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়া।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর অফিসপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া পরিচয়ে প্রবেশ করে এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবি করার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আটক ব্যক্তি নিজেকে দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তিনি এর আগে অন্য কোথাও একই ধরনের প্রতারণা করেছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জাফরুল্লাহর পরিচয়, পেশা এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া পরিচয়ে প্রবেশ এবং কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সরকারি অফিসগুলোতে নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।