ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সৈয়দপুরে অবহেলা ও অনিয়মে সংকটে শহীদ জিয়া শিশু নিকেতন


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৬:১১ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু নিকেতন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে ধুঁকছে। একসময় এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে মরহুম ইজহার আহমেদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রাথমিক স্তরে পাঠদান চালু হলেও পরে তা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয় এবং পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে আগাছা, ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে আছে। মাঠে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না তারা। অনেক সময় আংশিক বেতন দেওয়া হলেও কয়েক মাসের বকেয়া থেকে যায়। এতে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের কিছু কক্ষ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অর্থের বিনিময়ে এই বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থের একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি। একইসঙ্গে একটি শহীদ মিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের জাতীয় দিবসে অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। এদিকে বিদ্যালয়ের চারপাশে দীর্ঘ ১৬ বছরেও সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণ না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফিরোজ আলম বলেন, সিসিটিভি স্থাপনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। শিক্ষকদের বেতন বকেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় বিদ্যালয়ের আয় সীমিত। ফলে মাঝে মাঝে বেতন দিতে বিলম্ব হয়।

গুদাম ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বোর্ডের শর্ত পূরণে শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখানো প্রয়োজন হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন কোনো সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।

আকাশজমিন / আরআর    


এ সম্পর্কিত আরো খবর