ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসিতে পাসের বড় বিপর্যয়: ফেল করেছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫.৯৮%, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা বোর্ড, পেছনে বরিশাল এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সুখবর উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থী এইচএসসি ফলে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ এ ছেলেরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বিএনপি দেখে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এইচএসসিতে ১৩৯ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, কমেছে সাফল্যের হার মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,২৫০ জন ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল, এইচএসসিতে এগিয়ে ছাত্রীরা

মা দিবসে ছেলেকে বাঁচাতে কিডনি দান করলেন মা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১০ মে, ২০২৬ সময় : ৭:০৪ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বিশ্ব মা দিবসে এক মায়ের অসীম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। নিজের গুরুতর অসুস্থ ছেলেকে নতুন জীবন দিতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন মা নাসিমা সুলতানা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকার বাসিন্দা নাসিমা সুলতানার ছেলে নাসিম জাহান আকাশ প্রায় নয় মাস আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অকেজো হয়ে গেছে। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছিলেন।

ছেলের শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মা নাসিমা সুলতানা। তবে সন্তানের জীবন বাঁচাতে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর তার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নাসিমা সুলতানা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল পেশাজীবী হয়েও তিনি সন্তানের জীবন রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন মা নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সন্তানের জন্য কিডনি দান করছেন—এমন ঘটনা খুবই বিরল। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাকে “প্রকৃত মা” হিসেবে অভিহিত করছেন।

আকাশের বড় বোন বৃষ্টি বলেন, “আমার ভাইকে বাঁচানোর জন্য মা নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে দিচ্ছেন। পৃথিবীতে মায়ের মতো কেউ হতে পারে না। সবাই আমার মা ও ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হলে আকাশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী কিছুদিন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসা চলবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিবেশী ও সামাজিক মহলে নাসিমা সুলতানার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, মা দিবসের দিনে এমন ঘটনা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।.

আকাশজমিন / আরআর    


এ সম্পর্কিত আরো খবর