সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মেগা প্রকল্পের নামে দেশে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং প্রায় ত্রিশ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার দুপুর ১২টায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সেতু বিভাগের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন এবং পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, “মেগা প্রকল্পের নামে লুট হয়েছে। ত্রিশ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বিশ লক্ষ কোটি টাকার উপরে বৈদেশিক ঋণ রেখে যাওয়া হয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহনের প্রতিমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরউদ্দিন আহমেদ অপু, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ সফিকুর রহমান কিরন এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, জাদুঘরটি নির্মিত হলে পদ্মা সেতুর ইতিহাস, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
প্রধান অতিথি শেখ রবিউল আলম তার বক্তব্যে শরীয়তপুর জেলার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাবে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।