কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় একটি ঔষধের দোকান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন আরিফুল ইসলাম (২৬)। তিনি উপজেলার ২নং বাকশিমুল ইউনিয়নের আনন্দপুর (চকবস্তা) গ্রামের মশকত আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ লোকমান হোসেন কালিকাপুর বাজারে “নাভা মেডিকেল হল” নামে একটি ঔষধের দোকান পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম প্রায় আট বছর ধরে ওই দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
দোকান মালিকের আস্থার সুযোগ নিয়ে আরিফুল ইসলাম দোকানের ক্যাশ পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতেন। সম্প্রতি দোকানে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঔষধের টাকা ক্যাশে জমা না দিয়ে গোপনে নিজের কাছে রেখে দিতেন।
এছাড়াও পূর্ববর্তী সময়ের লেনদেন ও আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণ করে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে তিনি আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
ভুক্তভোগী দোকান মালিক মোঃ লোকমান হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসের সঙ্গে অভিযুক্তকে দোকানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার অস্বাভাবিক আর্থিক উন্নতি সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে হিসাব যাচাই ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং অভিযুক্ত তার এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর এমন আত্মসাতের অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক লেনদেনে আরও সতর্কতা ও আধুনিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন অনেকে।