ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি অনাবাদি


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৩৫ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের কারণে স্থানীয়দের প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের কারণে এসব জমি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্প এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের এসব ইস্যুতে বড় ধরনের বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পূর্ণ অনুমোদন ও তদারকি থাকা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, উখিয়ার কুতুপালংয়ের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তারা তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দাবি জানান।

এছাড়া এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। জেলার বাইরে থেকে নিয়োগের প্রবণতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় গঠিত কাঠামোতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়। বক্তাদের মতে, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ কারণে একটি কার্যকর প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যা পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয় জনগণকে নিয়মিত তথ্য দেবে।

সংগঠনটি দাবি করে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। স্থানীয় মতামত উপেক্ষা করে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে—এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর