ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

স্কুল যাত্রায় চরম দুর্ভোগ

এক কিলোমিটার রাস্তায় হাজারো কষ্ট


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৪১ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু ,সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি মাত্র প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় প্রায় ২০০ কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসী। রানিরহাট-মান্নাননগর সংযোগ সড়কের ঘরগ্রাম ওবদা বাঁধ থেকে ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই একমাত্র সড়ক দিয়েই শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ, কারণ এই পথ দিয়েই মাঠের ফসল ঘরে তোলা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, ফলে পথটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে রিকশা, ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই রাস্তায় কোনো যানবাহন সহজে চলতে চায় না। কেউ গেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। প্রতি মন ফসল পরিবহনে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হয়, যা স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি। এতে কৃষিপণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।


এলাকাবাসী আরও জানান, প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই কাদা-পানিতে পড়ে যায়, এতে তাদের বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। অভিভাবকরাও সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এটি বিদ্যালয়ে আসার একমাত্র রাস্তা। বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীরা কাদা-পানিতে পড়ে যায়, তাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত রাস্তা পাকা না করা হলে শিক্ষার্থীদের স্কুল বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, “সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।”

এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

আকাশজমিন / আরআর       


এ সম্পর্কিত আরো খবর