মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন পর মেরামত ও সংস্কার শুরু হয়েছে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নারী-পুরুষ ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনায়। দীর্ঘ সময় অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারহীনতার কারণে হাসপাতালটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ছিল। অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির সহায়তায় মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে রোগী ও স্বজনদের মাঝে।
৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ, কাজিপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার আংশিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ শতাধিক রোগী বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় হাসপাতালের ভবন, ওয়ার্ড, শৌচাগার, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। অনেক সময় জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডের পরিবেশ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও সংস্কারহীন থাকায় চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল।
বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের অবকাঠামো মেরামত ও সংস্কারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনার পরপরই হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড, রোগীদের খাবার তৈরির রান্নাঘরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সংস্কার ও মেরামত কাজ শুরু করা হয়।
মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় হাসপাতালটির সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। এটি হাসপাতালের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ ছিল। কাজগুলো সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষ ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন সংস্কার কাজ শেষ হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংস্কার কাজ শুধু হাসপাতালের সৌন্দর্য বা অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং এটি এলাকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা। তারা দ্রুত কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।