হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাহুবল উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ফারুক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মনিরুজ্জামান ফারুক মোটরসাইকেলযোগে মিরপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সিলেটগামী সাগরিকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং সড়কে ছিটকে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ এবং শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সাগরিকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাসটি পুলিশের কাছে হাজির করার আশ্বাস দিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তারা দ্রুত সড়কে কঠোর নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মনিরুজ্জামান ফারুকের মৃত্যুতে বাহুবল উপজেলা যুবদলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা বলেন, তিনি একজন সক্রিয় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত।
পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন। স্বজনরা জানান, ফারুক প্রতিদিনের মতোই কাজে বের হয়েছিলেন, কিন্তু আর জীবিত ফিরে আসেননি। এই মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটবে।