ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আইন অনুযায়ী ব্যাংক খাতে ফিরতে পারবেন না লুটেরারা: গভর্নর


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ৯:০৫ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর কখনও ব্যাংক খাতে ফিরে আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, অতীতে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা মালিকানায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

রোববার এক অনুষ্ঠানে গভর্নর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যারা অনিয়ম করেছে এবং জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তারা যেন আর ব্যাংক খাতে ফিরে আসতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক একীভূতকরণের (মার্জার) মাধ্যমে যেসব ব্যাংককে একত্র করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় আলাদা বা ভেঙে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টেকসই ও শক্তিশালী করার জন্য এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্জারের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে এই প্রক্রিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল করবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অবস্থানকে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর বার্তা সাধারণ আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গভর্নর আরও জানান, ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে তদারকি জোরদার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর