ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

৪০ বছরের জীবনযুদ্ধে হার না মানা মাহাতাব হোসেন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬ সময় : ১০:৩৩ এএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মাহাতাব হোসেন জীবনসংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ। টানা প্রায় ৪০ বছর ধরে অভাব-অনটন ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে কেবল টিকে থাকার সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম আর সীমাহীন ধৈর্যের গল্প।

মাহাতাব হোসেনের জীবন সহজ ছিল না। পরিবার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো পার করেছেন কঠোর শ্রমের মধ্যে। যৌবনের দিনগুলো কেটে গেছে কাজের ঘাম আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বেড়েছে, শরীরেও এসেছে বার্ধক্যের ছাপ, তবে থামেনি তার জীবনযুদ্ধ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহাতাব হোসেন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ ও ধৈর্যশীল মানুষ। জীবনের কঠিন সময়েও তিনি কারো কাছে হাত না পেতে নিজের শ্রমের ওপর ভর করে বেঁচে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মানুষ তাকে একজন প্রকৃত লড়াকু মানুষ হিসেবেই চেনে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মানুষ কত কষ্ট সহ্য করতে পারে, তা মাহাতাব হোসেনকে না দেখলে বোঝা যায় না। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যেভাবে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন, তা আমাদের সবার জন্যই অনুপ্রেরণার।

বর্তমানে বয়সের ভারে তিনি কিছুটা নুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে এখনো কাজ করতে হয় তাকে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি ভাটড়া শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করে জীবিকার খোঁজে দিন পার করেন। নিজের জন্য তার চাহিদা খুব সীমিত। তিনি বলেন, দুমুঠো ভাত আর একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই তিনি খুশি।

এই সংগ্রামী মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়গুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারতেন এই দীর্ঘ ৪০ বছরের জীবনযোদ্ধা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, আমাদের সমাজে আমরা অনেকেই ছোটখাটো সমস্যায় ভেঙে পড়ি। কিন্তু মাহাতাব হোসেন আমাদের দেখিয়েছেন প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, মনের শক্তি ও সততা থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা আমাদের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা। উপজেলা প্রশাসন সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।

মাহাতাব হোসেনের জীবন কেবল একটি ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং এটি গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র, যেখানে সীমিত সুযোগের মধ্যেও মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যায়। তার এই দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন সমাজের জন্য একটি নীরব বার্তা—পরিশ্রম, ধৈর্য ও আত্মসম্মান থাকলে প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকা সম্ভব।


এ সম্পর্কিত আরো খবর