বাংলাদেশের মিরপুর টেস্টে পঞ্চম দিনে নাটকীয় ধসের পর দ্বিতীয় ইনিংস ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। এতে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৬৮ রান। দিনের শুরুটা ছিল প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা নিয়ে, তবে নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ ইনিংস।
দিনের শুরুতে একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করছিলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দিনের তৃতীয় ওভারেই আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। তিনি করেন ২২ রান। এরপর লিটন দাসও বেশি সময় টিকতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির বল খেলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি ১১ রানে।
এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু নোমান আলীর বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে তিনি বোল্ড হয়ে যান। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি। ১৫০ বল খেলে ৮৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এক সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শান্তর বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। মিরপুরের এই টেস্টে পাকিস্তানের বোলাররা নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন দ্রুতই। একে একে ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ২৬৮ রান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করার সুযোগ পাবে সফরকারীরা।
এর আগে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আগা বলেছিলেন, দুই সেশন সময় পেলে এবং প্রায় ২৫০ রানের লক্ষ্য হলে তারা জয়ের জন্যই খেলবে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত তার কাছাকাছি লক্ষ্যই দিয়েছে।
গতকাল দিনের শেষে বাংলাদেশের লিড ছিল ১৭৯ রান। আজ মুশফিক ও শান্ত মিলে ইনিংস শুরু করেন। কিন্তু দিনের শুরুতেই মুশফিকের বিদায়ে চাপ বাড়ে। পরে লিটন ও শান্তর বিদায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ।
শান্ত চলমান সিরিজে আগেই একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং এবারও বড় ইনিংসের খুব কাছাকাছি ছিলেন। তবে ১৩ রানের ব্যবধানে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় তার। এর আগে তিনি টেস্টে একাধিকবার দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
বাংলাদেশের ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান আলী ও নোমান আলী। দুজনই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ ইনিংস।
এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ভর করছে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ওপর। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা কতটা চাপ সামলাতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে মিরপুর টেস্টের ফলাফল।