ঘরের মাঠে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়েকে হারালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে কখনো জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে এবার ইতিহাস বদলে দিল টাইগাররা। ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে নাহিদ রানার তাণ্ডবে কুপোকাত হলো সফরকারী পাকিস্তান দল।
মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। ফলে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার নেন নাহিদ রানা।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। তিনি ৫ বলে ২ রান করে আউট হন। অন্য ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫ রান। অধিনায়ক শান মাসুদ করেন মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। এরপর চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা। ফিফটি তুলে নেওয়া ফজলকে ৬৬ রানে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ইনিংস সাজান তিনি। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ২৬ রানে ফেরান তাসকিন আহমেদ।
পাঁচ উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল। কিন্তু তাদের জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দেন তিনি। দুজনেই ১৫ রান করে আউট হন। এরপর ১ রান করা হাসান আলিকে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম।
শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নাহিদ রানার তৃতীয় আঘাতে ভেঙে যায় সেই জুটি। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান ছিল চতুর্থ দিন শেষে। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৭ রান করেন। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ রান। এছাড়া লিটন দাস ১১, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩ ও তাসকিন ১১ রান যোগ করেন।
ম্যাচ শেষে মিরপুরে উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকরা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট জয় লিখে ফেলল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।