ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

শিকলে বাঁধা নাতিকে নিয়ে টিসিবির লাইনে নানি সালেহা বেগম


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬ সময় : ৮:০৬ পিএম

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাক থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কেনার আশায় এক মানবিক ও করুণ দৃশ্যের দেখা মিলেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ বছর বয়সী কিশোর সাইফুল ইসলামকে শিকল দিয়ে বেঁধে টিসিবির লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখেন তার সত্তরোর্ধ্ব নানি সালেহা বেগম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাককে কেন্দ্র করে নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় আড়াই শতাধিক নারী-পুরুষ সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন কম দামে তেল, ডাল ও চিনি কেনার জন্য। সেই ভিড়ের মধ্যেই শিকলে বাঁধা অবস্থায় নাতিকে নিয়ে হাজির হন সালেহা বেগম।

সালেহা বেগম ও সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে নানি-নাতি। সাইফুল জন্মগতভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং নিজে চলাফেরা বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পরিবারের সদস্যদের মতে, সে সহজেই হারিয়ে যায় এবং আশপাশ চিনতে পারে না। এর আগেও কয়েকবার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একবার সে মিরপুর এলাকা থেকে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জে পাওয়া যায়। এ কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে তার পায়ে শিকল ব্যবহার করা হয় বলে জানা যায়।

সালেহা বেগম জানান, তিনি মিরপুর-১ এলাকায় একটি মেসে রান্নার কাজ করেন। তার স্বামী সবজি দোকানের কর্মচারী। পরিবারে মাসিক আয় প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো হলেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। পাশাপাশি তিনি বয়স্ক ভাতা হিসেবে তিন মাস পরপর এক হাজার ৯০০ টাকা পান, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, বাজারের দাম বেশি হওয়ায় টিসিবির ট্রাকের পণ্য কেনার চেষ্টা করেন। সাশ্রয়ী দামে তেল, ডাল ও চিনি পাওয়ায় এখানে আসেন। আজও একই কারণে তিনি নাতিকে নিয়ে সকালেই বাসা থেকে বের হন।

ঘটনার দিন সকালে তারা প্রথমে সরকারি বাঙলা কলেজ এলাকায় যান। সেখানে টিসিবির ট্রাক না পেয়ে পরে মিরপুর-২ এলাকায় যান। সেখানেও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সনি সিনেমা হলের সামনে এসে অবস্থান নেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জনসমাগম বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে টিসিবির একটি ট্রাক মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের বিপরীতে এসে দাঁড়ালে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সারিতে থাকা মানুষজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই শিকলে বাঁধা সাইফুলকে নিয়ে সামনে আসেন সালেহা বেগম।

তিনি জানান, শিকল নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। একই সঙ্গে নাতিকে ছেড়েও রাখা যায় না। অনেক সময় মানবিক বিবেচনায় লাইনে না দাঁড়িয়েও পণ্য পেয়ে যান বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়রা জানান, সাইফুল ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। পরিবারের দেখাশোনার অভাবে তাকে নিরাপত্তার জন্য শিকলে বেঁধে রাখা হয়।

চা বিক্রেতা সোলাইমান ইসলাম বলেন, সালেহা বেগম মাঝেমধ্যে এখানে আসেন। নাতির অবস্থা ছোটবেলা থেকেই এমন। আগেও একাধিকবার হারিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

সালেহা বেগম আরও বলেন, আয় সীমিত হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভাগ্যের ওপর ভরসা ছাড়া উপায় নেই। যতদিন পারেন কষ্ট করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মাঝে টিসিবির ট্রাকই তাদের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর