এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাসেক (SASEC) ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-হবিগঞ্জ অংশে কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ১০৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ১৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ এ সময়ে কাজের অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৭৬ শতাংশ। এতে বাড়ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি এলাকা থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আল-আমীন ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, ফ্লাইওভার ও ডিজাইন সংক্রান্ত সমস্যা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে কাজের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের আওতায় এই অংশে ২৬টি কালভার্ট ও ৭টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু মেঘনা নদী, সিলেট ও জাফলং এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং মাটি নেওয়া হচ্ছে স্থানীয় উৎস থেকে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে উত্তোলিত নিম্নমানের বালুও ফিলিং কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান অগ্রগতিতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার ইমাম নাজুমুন সালেহীন বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কালভার্ট ও সেতুর কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সবকিছু যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্যান্য অংশের তুলনায় তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় বেশি কাজ হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ হওয়া সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, প্রায় ২০৯-২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) এর বাস্তবায়নে বিদ্যমান দুই লেনের মহাসড়ককে ৪টি মূল লেন ও ২টি সার্ভিস লেনসহ আধুনিক মহাসড়কে উন্নীত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার হবে।